শিরোনাম
◈ নিখোঁজের রহস্যের অবসান, লাকসাম স্টেশনে আহত অবস্থায় খোঁজ মিলল জিসানের ◈ বিশ্বকাপের মঞ্চে সিআইএর গোপন অপারেশন? ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে বিষপ্রয়োগের দাবি ◈ গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার, ৬৯টি কূপ খনন করবে বাপেক্স ◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক ◈ সীমান্তে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত ◈ ‘সুপার’ এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আগমন, পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ংকর হতে পারে: বিজ্ঞানীরা ◈ কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না, আমাদের উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করছে: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে"

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫২ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধামরাইয়ে দিশেহারা কৃষক: পানি নিষ্কাশন না থাকায় শত শত হেক্টর জমি পানির নিচে

মো: আদনান হোসেন, ধামরাই ঢাকা: ঢাকার ধামরাইয়ে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সোমভাগ ইউনিয়নের তিন গ্রামের শত শত হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে আছে। সরিষা, ধানসহ শীতকালীন মৌসুমি চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারের বেশি কৃষক। কলকারখানার মালিকদের অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাট ও পানির গতিপথ বন্ধ করে দেওয়াকে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকরা।

উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের উত্তর জয়পুরা পশ্চিম পাড়ার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষা শেষ হওয়ার পরও পানি সরতে না পেরে জমি এখনো হাঁটু–সমান পানিতে ডুবে আছে। একসময় এই এলাকায় বর্ষা শেষে খুব সহজেই পানি নিষ্কাশন হতো। ধান, পাট, সরিষা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের চাষাবাদ হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দুই পাশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা ও রাস্তা নির্মাণের কারণে পানি যাওয়ার নালা-খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

৭০ বছরের অভিজ্ঞ কৃষক মো. দুলু মিয়া বলেন,“আগে বর্ষা গেলেই পানি নেমে যেত। জমিতে ধান–পাট–সরিষা সবই চাষ করতাম। এখন মিল–কারখানার মালিকরা যেভাবে খুশি মাটি কেটে বাঁধ দিচ্ছে, ফলে পানি বের হতে পারছে না। তাই জমি বছরের পর বছর পানির নিচে পড়ে আছে।”

সোমভাগ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের উত্তর পাশে গড়ে ওঠা কারখানাগুলো নিজেদের সুবিধামতো পানির গতিপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হলে হাজার টনের বেশি সরিষা ও ধান উৎপাদন সম্ভব।”

স্থানীয় কৃষক মো. হারুন রশীদ জানান, “এই সময়ে আমরা সরিষা লাগাতাম, পরে ধান। এখন জমিতে এত পানি যে ধান লাগানোও সম্ভব নয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে আমরা বছরে দুই–তিন ফসলের সুযোগ হারাচ্ছি।”

একই কথা জানান এলাকার এক স্কুলশিক্ষকও। তিনি বলেন,“সহস্রাধিক কৃষকের একমাত্র দাবি—পানি নিষ্কাশন। সময়মতো পানি বের হলে ফসল উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়বে।”

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন,অপরিকল্পিত কলকারখানায় স্থাপনের ফলে মাটি দিয়ে খাল ভরাট হয়ে যাওয়া জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে “সরেজমিনে যাচাই করে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামনুন আহমেদ অনিক বলেন,“এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। জয়পুরা বাজার এলাকা থেকে নালায় ময়লা ফেলা হয়, পাশাপাশি অপরিকল্পিত মিল–কারখানা নির্মাণে পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু ক্যানেলটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে পড়েছে, তাই যৌথ উদ্যোগে সমাধান করা হবে।”

স্থানীয়কৃষকেরা বলছেন,দ্রুতপানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নাহ লে ধামরাই ফসল উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়