শিরোনাম
◈ প্রতি তিনজন স্নাতকের একজন বেকার: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শ্রমবাজার ◈ মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা বাড়লেও বাড়ছে ঋণের দায় ◈ সস্তায় পেয়ে ৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, পরে জানলেন বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই ◈ বিসিবির প‌রিচালকরা কে কোন ক‌মি‌টির দায়িত্ব পে‌লেন ◈ নির্বাচনের আগে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংক ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে দেড়গুণ বাড়ানো হলো বিজিবি মোতায়েন ◈ ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, ব্যাংকটি বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী ◈ কী থাকবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন চার বিষয়ের মধ্যে? ◈ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান, নাহিদ-মোসাদ্দেকের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় ◈ এবার বাতিল হ‌লো ইরানের জন্য বরাদ্দ থাকা ‌বিশ্বকা‌পের টিকিটও

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৯ বিকাল
আপডেট : ০৬ মে, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১৮ ন‌ভেম্বর ২২ বছর পূর্ণ হ‌চ্ছে: বাঁশখালীর সাধনপুরের শীলপাড়ার ১১জন‌কে পুঁড়ি‌য়ে হত্যার বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা হারিয়েছে নিহ‌তের স্বজ‌নেরা

কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম)প্রতি‌নি‌ধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের শীল পাড়ায় ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের বর্বরতম ১১ জনকে পুঁড়িয়ে হত্যা করা হয়। দেখতে দেখতে ইতিহাসের বর্বরতম বাঁশখালীর সাধনপুরের শীলপাড়ার ১১ হত্যার ২২ বছর পার হলেও স্বজন হারার বিচার বিচার পাবে কিনা সন্দেহ প্রকাশ করে মামলার বাদী বিমল কান্তি শীল ও তার ছোট ভাই শিক্ষক নির্মল শীল। তাদের দাবী দেখতে দেখতে ২২ বছর পার হয়েছে,আর কতদিন লাগবে স্বজন হারা ১১জনের বিচার পেতে ? গতকাল র‌বিবার  সরজমিনে পরিদর্শনকালে দেশের আলোচিত পোড়া বাড়ি খ্যাত বাঁশখালীর সাধনপুরের শীলপাড়ায় ১১ হত্যার সমাধিস্থল ও স্মৃতি সৌধেএলাকায় গেলে নীরবতা লক্ষ করা যায়। কথা হয় মামলার বাদী নিহত   তেজেন্দ্র শীলের পুত্র বিমল কান্তি শীল এর সাথে। ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নির্মম খুনের শিকার হয়েছিল তেজেন্দ্র লাল শীল(৭০), তার স্ত্রী বকুল বালা শীল (৬০), ছেলে অনিল কান্তি শীল (৪২) ও তার স্ত্রী স্মৃতি রাণী শীল (৩০), তাদের মেয়ে মুনিয়া শীল (৭) ও রুমি শীল (১১), চারদিন বয়সী শিশু কার্তিক শীল, তেজেন্দ্র শীলের ছোট ভাই শচীন্দ্র শীলের মেয়ে বাবুটি শীল (২৫), প্রসাদী শীল (১৭),অ্যানি শীল (১৫) এবং বান্দরবান থেকে বেড়াতে আসা তেজেন্দ্র শীলের বেয়াই  দেবেন্দ্র শীল (৭৫)। 

বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের শীল পাড়ায় ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর  রাতে বাংলাদেশের ইতিহাসের বর্বরতম ১১ জনকে পুঁড়িয়ে হত্যা করা হলে সেটা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয় ॥ শুরুতে এ হত্যা ৪০৬/২০০৬ মামলার বাদী নিহত তেজেন্দ্র শীলের পুত্র বিমল কান্তি শীল হলেও পরবর্তীতে সেটা সরকার বাদি মামলাতে পরিনত হয়। মামলায় ৩৭ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন জেলে গেলে ও তারা বর্তমানে হাইর্কোট থেকে  জামিন নিয়ে মুক্ত জীবন যাপন করছে। অপর পলাতক আসামিরা ও নানা ভাবে জামিন নিয়ে বর্তমানে মুক্ত জীবনে রয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়। অপরদিকে মামলায় সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাসহ ৫৭ জনকে স্বাক্ষী দেওয়া হলেও দীর্ঘ ২২ বছরে  ২৮ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষী গ্রহন করা সম্ভব হয়, বাকীদের নেওয়া হয়নি নানা অজুহাতে।

এদিকে গত ২০২২ সালের জুলাই ১১ হত্যাকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিমল কান্তি সুশীল,সুনীল কান্তি শীল,নির্মল কান্তি শীল ৩ জনকে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে ১৫ লক্ষ টাকা করে ৪৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করলে তিন ভাই পৃথক তিনটি বাড়ি নির্মান করে। গতকাল র‌বিবার সরজ‌মি‌নে ঘটনাস্থল প‌রিদর্শণ কা‌লে প্রতি‌বে‌শি বাবুল শীল জানান,পৃথক তিন‌টি
বা‌ড়ি  নির্মাণ শে‌ষে আনুষ্টা‌নিক ভা‌বে প্রবেশ ক‌রে‌ছে কিছু‌দিন আ‌গে । তি‌নি আ‌রো জানান ১১জন হত‌্যার মৃত‌্যু বা‌র্ষিকী উপল‌ক্ষে ধর্মীয় কার্যা‌দি পাল‌নের প্রস্তু‌ত্তি নেওয়া হচ্ছে ।

তবে সেদিনের ঘটনায় তেজেন্দ্র শীলের বাড়িতে রাত যাপন করা ছোট ভাই শচীন্দ্র শীলের ৩ মেয়ে বাবুটি শীল (২৫), প্রসাদী শীল (১৭), অ্যানি শীল (১৫) আগুনে পুঁড়ে মারা গেলেও তাদের সরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা করা হয়নি। তারা ও সহযোগিতা পেতে নানা সময়ে আবেদন নিবেদন করলেও কোন ধরনের সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করেন।

মামলার ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি এডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরৗ রাজ্জাক বলেন, মামলাটির অক্টোবরেও শুনানীর তারিখ ছিল। স্বাক্ষীদের হাজির করার প্রসেস চলছে,আশা রাখি স্বাক্ষীদের স্বাক্ষীগ্রহনের শেষে একটি যথাযথ রায় প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।

বাঁশখালীর সাধনপুরের শীলপাড়ায় ১১ হত্যার ২২ বছর পার হওয়া, বিচার প্রক্রিয়া এবং মৃত‌্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বিমল কান্তি শীল বলেন, দীর্ঘ সময় মামলার পিছনে সময় দিতে দিতে আর পেরে উঠছিনা। অনেক সময় মামলার দিন থাকলে ও নানা কারণে হাজির হওয়া কষ্ট হয়। স্বাক্ষীরা সবাই স্বাক্ষী এখন ও শেষ হয়নি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটু খারাপ হওয়াতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে ও তেমন সময় দিতে পারেনি বলে তিনি জানান। তারপরেও স্থানীয় জনগনকে সাথে হত্যাকান্ডের ২২ বছর পূরণ উপলক্ষে পারিবারিক কিছু ধর্মীয় কায়াদি পালন ছাড়া বৃহৎ কোন অনুষ্টান করা হবে না বলে তিনি জানান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়