শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী ◈ বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী ◈ আফগা‌নিস্তান নাজেহাল, একদিনেই দু’বার অলআউট করে ৩০০ রা‌নে টেস্ট জিতলো ভারত ◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২৫, ০৮:০২ রাত
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত ‎লালমনিরহাটে একই আঙিনায় শতবর্ষী মসজিদ-মন্দির

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এমনই অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল নিদর্শন লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকায় একই আঙিনায় শতবর্ষী পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আসছেন নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

‎ইতিহাস বলছে, ১৮৩৬ সালে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির। পরে ১৯০০ সালে একই প্রাঙ্গণে মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামাজ আদায়ের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেন, যা পরবর্তীতে ‘পুরান বাজার জামে মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। তখন থেকেই শুরু হয় ভিন্ন ধর্মের দুই উপাসনালয়ের সহাবস্থান।

‎একই উঠানে দুই ধর্মের উপাসনালয় থাকার পরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি কখনো। বরং এখানকার মানুষ নিয়মতান্ত্রিকভাবে শালীনতা বজায় রেখে মসজিদ-মন্দিরের সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। আজান শুরু হলে মন্দিরের মাইক, ঢাক-ঢোলসহ সব বাদ্যযন্ত্র বন্ধ থাকে। নামাজ শেষে আবার পূজা-অর্চনার কার্যক্রম শুরু হয়।

‎মসজিদের এক মুসল্লি বলেন, “আমরা দেখেছি এখানে কখনো ধর্ম নিয়ে কোনো হানাহানি হয়নি। বরং পূজা বা নামাজের সময় একে অপরকে সহযোগিতা করে। তাই দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ এখানে আসেন ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ দেখতে।”

‎কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী বলেন, “শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো বিরোধ হয়নি। পূজা-মসজিদের কার্যক্রম আগে থেকেই মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে নির্ধারণ করে। ফলে সব অনুষ্ঠানই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।”

‎পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আল আমিন হোসেন জানান, “আমরা মন্দির কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করি, তারাও আমাদের সহযোগিতা করেন। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে চলছে এ সম্প্রীতির বন্ধন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”

‎এমন সম্প্রীতির স্থান দেখতে প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন। কয়েকজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতও ইতিমধ্যে এই ঐতিহাসিক মসজিদ-মন্দির ঘুরে গেছেন।

‎লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির থাকা সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত। এটি লালমনিরহাটবাসীর অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জ্বল প্রমাণ।”

‎বর্তমানে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে কালীবাড়ী মন্দিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। অপরদিকে পাশের পুরান বাজার জামে মসজিদে নিয়মিত নামাজ-ইবাদত চলছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই মিলনস্থল লালমনিরহাটের মানুষকে যেমন গর্বিত করছে, তেমনি গোটা দেশেও ছড়িয়ে দিচ্ছে সহাবস্থানের এক অনন্য বার্তা।


 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়