শিরোনাম
◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল ◈ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়, থাকছে না উৎসে কর ◈ ১৬০ অর্থনীতিবিদের জরিপ: স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স ◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা!

প্রকাশিত : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:২১ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এক বছর ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ, মোরেলগঞ্জের ৫৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের অধিকাংশই তালাবদ্ধ

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট প্রতিনিধি: ‘স্বাস্থ্য সবার, সেবা সবার দোরগোড়ায়, কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামের সেবা’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম চলমান। তবে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ৫৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘ এক বছর ধরে এসব ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সপ্তাহে অধিকাংশ দিন ক্লিনিক বন্ধ থাকে, আর খোলা থাকলেও মূল ফটকে ঝুলছে তালা। মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যকর তদারকি নেই।

স্থানীয়রা জানান, শ’ শ’ রোগী প্রতিদিন ক্লিনিকে আসলেও ১–২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। তেঁতুলবাড়িয়া, বরইতলা, জিউধরা, বহরবুনিয়া, পুটিখালী, বলইবুনিয়া, তেলিগাতি ও পঞ্চকরণ ইউনিয়নের বেশিরভাগ ক্লিনিক সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই বন্ধ পাওয়া গেছে।

৫৫টি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা ৫২ জন সিএইচসিপির অনেকেই নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি একেবারেই নেই। ১২ জন সুপারভাইজার ও ৪ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক থাকলেও তারা মাসের পর মাস ক্লিনিক পরিদর্শনে যাচ্ছেন না। ফলে সিএইচসিপিরা ওষুধ সংকট ও অব্যবস্থাপনার মুখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তেঁতুলবাড়িয়া ক্লিনিকের সিএইচসিপি সুমন হাওলাদার, বরইতলার আশিষ বিশ্বাস ও বদনীভাঙ্গার জিয়াউর রহমান জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে রোগীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ইয়াকুব মুন্সী, সোনিয়া বেগম ও জাহিদ হাওলাদার বলেন, “সপ্তাহে দু-তিন দিন ক্লিনিক খোলা হলেও ডাক্তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা থাকেন। এরপর বলেন— ওষুধ নেই। এভাবে আর কতদিন চলবে?”

মোরেলগঞ্জ হাসপাতালের এমপিপিআই দিপক কুমার বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন। বরাদ্দ এলে সংকট কেটে যাবে।”

হাসপাতালের স্টোর কিপার কেএম মাসুদ জানান, “কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ সরবরাহ সারাদেশেই বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এখানে চাহিদা দেওয়া বা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “কিছু সিএইচসিপি মৌখিক ছুটিতে থাকায় কিছু ক্লিনিক বন্ধ থাকতে পারে। তবে বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিগগিরই ওষুধ সরবরাহ চালু হবে।”

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়